
নিজস্ব প্রতিনিধি: বেনাপোল স্থলবন্দরে কাষ্টমসের গেটপাস ইস্যু ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন নির্দেশনা নিয়ে সিঅ্যান্ডএফ কর্মীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ফলে গেটপাশ জটিলতায় দুদিন বন্ধের পর বেনাপোল-পেট্টাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ ছিলো। এত গত দুদিনে ৩০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল থেকে পুরাতন নিয়মে চালু হয়েছে আমদানি। ফলে কমতে শুরু করেছে আমদানি পণ্য প্রবেশর যানজট।
বন্দর ও কাস্টমস সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে বন্দরের প্রবেশ মুখে ভারতীয় ট্রাক রিসিভসহ গেটপাসে কাজ করতেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফরা। কিন্তু গত ছয় মাসে বেনাপোল বন্দরে একাধিক শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা ও চোরাচালান প্রতিরোধে গত শনিবার থেকে বেনাপোল কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ নতুন নিয়ম চালু করে।
পরে আমদানি পণ্য রিসিভে গেটপাশ ইস্যুতে স্টাফদের ছবিসহ আইডি ও স্ব স্ব সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে পণ্য চালান গ্রহণের দায়বদ্ধতার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে করে শনিবার থেকে পণ্য আমদানিতে গেটপাস ইস্যু বন্ধ রাখেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফরা। ফলে বন্ধ হয়ে যায় পণ্য আমদানি। বন্দরে আগমনি শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে পেট্রাপোল সাইডে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আমদানিকৃত পণ্য চালানে ভারতীয় ট্রাকে কোন অবৈধ পণ্য থাকলে তার দায়ভার নিতে হবে ব্যবসায়ীদের। ফলে কারপাস বা গেটপাস নিয়ে বেনাপোল কাস্টমসের নতুন নির্দেশনা পরপরই সিঅ্যান্ডএফ স্টাফরা কাজ বন্ধ রাখে। তবে বিষয়টি অন্য বন্দরের সাথে সমন্বয় করে চলমান রাখার দাবী করেন তারা। পরে আলোচনার মাধ্যমে জটিলতার সমাধান হলে রোববার বিকেল থেকে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন আবারও গেটপাস ইস্যু শুরু করে। এর পরপরই বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম এবং দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
কাস্টমস সূত্র জানা গেছে, গত ছয় মাসে অন্তত ১৩০টি অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি ৪৬ জনকে আসামি করে তিনটি মামলা করে। এরপরই গেটপাস ইস্যু ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়, যা নিয়ে সিঅ্যান্ডএফ কর্মীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি বলেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার পর ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। রোববার বিকেল থেকে তারা আবার গেটপাস (কারপাস) ইস্যু শুরু করলে কিছু গাড়ি বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। আজ সোমবার সকাল থেকে পুরোদমে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে।
বেনাপোল আমদানি রফতানিকারক সমিতির সাবেক সভাপতি মহাসিন মিলন জানান,টানা দুদিন আমদানি বন্ধে কাস্টমস ৩০ কোটি টাকার রেভিনিউ (রাজস্ব) বঞ্চিত হয়েছে সরকার। ডেমারেজ সহ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়রা জানান, বেনাপোল বন্দরে একাধিক শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা ও চোরাচালান প্রতিরোধে আমদানি পণ্য চালানে গেটপাস ইস্যু ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন নির্দেশনা দেই কাস্টমস। তবে এ আদেশ মানতে নারাজ সিঅ্যান্ডএফ স্টাফরা। ফলে পূর্বের ন্যায় একই পন্থায় গেটপাশ চালু করে বন্দর-কাস্টমস। এতে চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি রোধের কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে। কাস্টমস আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিলো বন্দরের সিন্ডিকেট চক্র।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন জানান, কারপাশ জটিলতায় বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানী বাণিজ্য বন্ধের ছিলো। সকাল থেকে পুরদমে চলছে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। এছাড়া ক্ষতি পুশিয়ে নিতে রাত দিন কাজ চলমান থাকবে।