1. admin@dinratnews24.com : admin :
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর: ভবিষ্যৎ কোন পথে নিরাপদ পানীয় ষজল ব্যবহারে মাটির মেটে বিতরণ সাতক্ষীরায় ৩১ কোটি ৯৪ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি মণিরামপুরে তিন দিনব্যাপী ফল মেলা শুরু দেবহাটার নওয়াপাড়ায় শিশুশ্রম প্রগ্রেস শেয়ারিং মিটিং অনুষ্ঠিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে ব্রোঞ্জ জিতে যশোরের মুখ উজ্জ্বল করল ইফাজ কবির রাদ বেনাপোলে বিজিবির অভিযানে ৫৩ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার যশোরে এমপি’র নেশাগ্রস্ত মেয়ের কান্ড: প্রতিবাদে বাড়ি ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ বাংলাদেশ থেকে সার্কভুক্ত দেশে রপ্তানির গতি কেন হারাচ্ছে ? এনবিআরের ক্ষমতার বলয় থেকে রাজস্ব ঘাটতির চিত্র

বেনাপোল বন্দরের বিতর্কিত কর্মকর্তা রনি’র বদলি

দিন রাত নিউজ ২৪ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৮৭ বার পঠিত
বেনাপোল বন্দরের বিতর্কিত কর্মকর্তা রনি’র বদলি

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে গড়েউঠা সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা ওয়্যারহাউস সুপারিনটেনডেন্ট আশিকুর রহমান-রনিকে বদলি করছে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) পরিচালক প্রশাসন শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে হিলি স্থলবন্দরে বদলি করেন। তবে বদলির আদেশের পরপরই এ আদেশ বাতিল করতে উঠেপড়ে লেগেছে চক্রের হোতারা।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বেনাপোল বন্দরে পণ্য প্রবেশ থেকে শুরু করে শুল্কায়ণ পর্যন্ত একটি শক্তিশালি চেইন মেইনটেন্স করে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এ সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতারা হলেন- বগুড়ার হিরু,বেনাপোলের আজিম,আনোয়ার,রাজু,রানা,যশোরের মিঠু। কাস্টমস কর্মকর্তা এআরও মাহিদুল-১ ও ২,সোহেল পারভেজ, বন্দরের ওয়ারহাউস সুপারিনটেনডেন্ড রনি,ট্রাফিক পরিদর্শক হাফিজুর রহমান মিয়া, ওয়্যারহাউজ সুপারিনটেনডেন্ট-আব্দুল্লাহ আল আরিফ, ওয়্যারহাউজ সুপারিনটেনডেন্ট-নূর আহমেদ,ওয়্যারহাউজ সুপারিনটেনডেন্ট-আবুল খায়ের। এছাড়াও এ চক্রের সাথে বন্দর ও কাস্টমসের একাধিক কর্মকর্তারা মিলে মিথ্যা ঘোষণা, ওজন কারসাজি, পণ্য লোপাটের অভিযোগ মিলেছে।

বন্দর ও কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল আমদানিকারক রোকেয়া ট্রেডার্স ভারত থেকে ডাব্লু-বি-২৩-এফ-৮১৪২ গাড়িতে আঙ্গুর আমদানি করে যার ম্যানুফেস্ট নাম্বর ৬০১-২০২৬-০০১-০০২৫৮৩৩/০৪, তারিখ: ২৫/০৪/২০২৬ইং। আর এই পণ্য চালনটি ছাড় করণের দায়িত্ব ছিলো বেনাপোলের বহুল আলোচিত আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে যাওয়া উজ্জল বিশ্বাসের প্রতিষ্ঠান সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট উৎস শিপিং লাইন্স। ট্রাকটির ওজন কারসাজিতে ৫৭০ কেজি বেশি দেখানো হয়। খালি ট্রাকটির ওজন ছিলো ১৩হাজার ৩১০ কেজি অথচ কার সাজির মাধ্যমে স্লিপ দেওয়া হয় ১৩ হাজার ৮৮০ কেজি। ফলে ৫৭০ কেজি বেশি দেখানো হয়। শুল্ক ফাঁকির হিসাব মতে এই ট্রাক আগামী ৩ মাসে বন্দরে যে কোন পণ্য চালান নিয়ে মুভমেন্ট করবে সেখানে এই (ওজন কারসাজির) স্লিপ ব্যবহার করা হবে। সে ক্ষেত্রে ৫৭০ কেজিতে আঙ্গুরে শুল্ক ফাঁকি হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। এছাড়া উচ্চ শুল্ক যুক্ত পণ্য হলে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিবে। এর পরপরই ওজন স্কেলে অনিয়মের অভিযোগে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বন্দর তবে এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি সে তদন্ত।

কস্টমস সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন সহকারী কমিশনার অব কাস্টমস অটল গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উঠে আসে বন্দরের ৫ নম্বর ডিজিটাল ওজনযন্ত্রে একই সময়ে একই ভারতীয় খালি ট্রাকের দুই ধরনের ওজন দেখানো হয়েছে। পণ্য তালিকায় ট্রাকটির খালি ওজন ৪ হাজার ৮৮০ কেজি এবং অন্যটিতে ৪ হাজার ৯২০ কেজি উল্লেখ করা হয়েছে। ২৫ জুন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সে চালানটি আটক করে এবং বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। তবে এ বিষয়ে কাস্টমস আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

ব্যবসায়ীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া পণ্য একই শেডের বিভিন্ন স্থানে ভাগ করে রাখা হয়। পরে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ধাপে ধাপে সেগুলো খালাস করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বেনাপোল বন্দরের পচনশীল পণ্যর মাঠে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শামিম-উজ্জল ও ওয়ারহাউস সুপারিনটেনডেন্ড রনি,ট্রাফিক পরিদর্শক হাফিজুর রহমান মিয়ার কারসাজিতে ভারতীয় ট্রাক প্রতি ওজনকারসাজিতে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ফাদফায় শুল্ক ফাঁকি হচ্ছে। বেনাপোল বন্দরে শুল্ক ফাঁকির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার কারনে, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থ বছরে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ৪ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা।

শুল্ক ফাঁকি অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৫ আগস্ট পরবর্তীতে বেনাপোল বন্দরের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজসে গড়ে উঠা ওজন কারসাজির শুল্ক ফাঁকির সিন্ডিকেট বহাল তবিয়তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বন্দরে আগত চিহ্নিত ভারতীয় শুল্ক ফাঁকির একাধিকবার প্রবেশকৃত ট্রাক গুলোর হিস্টরি বের করে নতুন করে (ওজন) দিলেই বেরিয়ে আসবে ওজন কারচুপির সাথে জড়িত সিঅ্যান্ডএফ ও অসাধু কর্মকর্তাদের কারসাজির হিসাব। এছাড়া বন্দরের সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করলে মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্য চালানের সাথে জড়িতদের সনাক্ত করা যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১২ মার্চ বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে ৬ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির পণ্য চালান জব্দ করা হয়। রহস্যজনকভাবে বন্দরের জিম্মায় রাখা শুল্ক ফাঁকির সেই চালান গায়েব হয়ে গেছে (উচ্চ শুল্কযুক্ত) দামি ভারতীয় পণ্য। তার বদলে সেখানে রাখা হয় অতি নিম্নমানের দেশীয় শাড়ি, থ্রিপিস সহ অন্যান্য সামগ্রী। অথচ এই পণ্য গায়েবের সাথে জড়িত রাজস্ব কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম ও বন্দরের আশিকুর রহমান রনিকে আসামি করেনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ রয়েছে,সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম-১ এবং বন্দরের আশিকুর রহমান রনি একই এলাকার হওয়ায় যৌথ প্যাকেজে স্কেল ওজনে কারচুপি ও জাল নথিপত্র তৈরি করে পণ্য খালাসে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কাস্টমসের ৬ কোটি টাকার আটক পণ্য চালান পাচারের সাথে তারা পরস্পর জড়িত। তাছাড়া রিয়াদ এজেন্সির কর্মচারি রুহুল কুদ্দুস অরফে আনোয়ারের যোগসাজসে ৬০ লাখ টাকা রফাদফায় এ পণ্য চালান সরানো হয়। এই ঘটনায় গত ৯ (জুন) কাস্টমস বাদি হয়ে ১০ জনের নামে মামলা করে। যার মামলা নং-০৯, কাস্টমস আইন, ২০২৩ এর ধারায়- ৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৫/৩৪।

এ বিষয়ে ওয়ারহাউস সুপারিনটেনডেন্ড আশিকুর রহমান রনি জানান, আমি পচনশীল পণ্যর স্কেলে অতিরিক্ত হিসাবে দায়িত্ব পালনকরি। তাছাড়া (ওজন পরিমাপক যন্ত্র) কারসাজির বিষয়টি যান্ত্রিক ত্রুটি।

এদিকে আশিকুর রহমান রনির বদলির আদেশ ঠেকাতে শুল্ক ফাঁকি চক্র তদবির বাণিজ্যে উঠেপড়ে লেগেছে। প্রধাণমন্ত্রীর বন্ধু পরিচয়দানকারী বগুড়ার হিরু সব ঘাট ম্যানেজ করে ওয়ারহাউস সুপারিনটেনডেন্ড আশিকুর রহমান রনির বদলির আদেশ বাতিল করতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রাণালয়ে লবিং চালাচ্ছে। অপরদিকে রনি বদলির আদেশ বাতিল হবে বলে বন্দর এলাকায় জোর গলায় জাহির করছে। সর্বশেষ রনি এবং হিরু ঢাকাতে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর
© dinratnews247@gmail.com © স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দিন রাত নিউজ ২৪  
প্রযুক্তি সহায়তায় দিন রাতের খবর ২৪
error: Content is protected !!